সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৭ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
চেম্বার অব কমার্সের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি পেশ স্কুলছাত্রীকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় কিশোরের ওপর দফায় দফায় হামলা, থানায় অভিযোগ কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত আবারো মৃত ডলফিন পটুয়াখালীতে ইফতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের মানববন্ধন ও  স্মারকলিপি প্রদান জনগণ চাইলে নির্বাচনে অংশ নেব — সাংবাদিক হাফিজুল ইসলাম শান্ত উজিরপুরে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস ক্যাম্পিং-এর শুভ উদ্বোধন বরিশালে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে কুইজ, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এলো ৮ ফুট লম্বা মৃত ইরাবতী ডলফিন বরিশাল কালেক্টরেট স্কুলের এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা কলাপাড়ায় স্যাডো ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে দাঁড়ালেন সদর আসনের এম পি সরোয়ার বরিশালে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও নারী শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে উঠান বৈঠক বরিশালে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অবসর ভাতা ও কল্যাণ ভাতার দাবিতে মানববন্ধন পটুয়াখালী সদর উপজেলা শিক্ষক কর্মচারী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে সভাপতি আবু জাফর সাধারণ সম্পাদক বিদ্যুৎ পাল বাউফলে নার্সিং ইনস্টিটিউটে শিক্ষক সংকট,পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে অধ্যক্ষ
‘প্রতিবন্ধিতা’ হার মেনেছে বিজয় সাঁওতালের কাছে

‘প্রতিবন্ধিতা’ হার মেনেছে বিজয় সাঁওতালের কাছে

Sharing is caring!

চা বাগানের পাকা পথ ঘিরে নির্জন বিকেল। হঠাৎ করে কেউ হয়তো আসছে এ পথ ধরে, তারপরই এখানে শূন্যতা নামে। দূর গাছের ওই মাথায় পাহাড়ি পাখির ডাকে এ পরিবেশকে অন্যরকম রূপ দিয়ে রেখেছে।

এমন অলস দুপুরের নির্জনতা ঘিরে চা গাছগুলোতে দিবসের শেষ রোদের মাখামাখি। সম্প্রতি মিরতিঙ্গা চা বাগানের প্রতিবন্ধী পৌঢ় বিজয় সাঁওতাল এমন বৈকালিক নির্জন পথিক। কাঁধে তুলে লাকড়ির বোঝা নিঃশব্দে জীবনের বহমান দারিদ্রতা আর জটিলতার জানান দেয়।

 তবে বিজয় হার মানিয়েছেন তার শারীরিক অক্ষমতাকে। সেইসঙ্গে ক্ষুদ্রাকার মানুষ তিনি। উচ্চতা তেমন নেই বললেই চলে। প্রতিদিন রুটিনমাফিক কর্তব্যকর্মে ছাপিয়ে পড়তে হয়। সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে বিকেলে ফেরা। সবকিছুই যেন চলমান বেঁচে থাকার তাগিদে।

বিজয় সাঁওতাল বলেন, ‘আমার কী কথা শুনবেন বাবু? আমার তো পোড়াকপাল। ছোট থেকেই হাঁটতে পারি না। বাবা-কাকারা বলেছেন, জন্মের পর একটা অসুখ হয়েছিল। তারপর থেকেই হাঁটার শক্তি হারিয়ে ফেলি আমি। তবে আমি বসে খাই না। কাজ করে খাই।’

কাজের বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আমার বড় ভাই সত্য সাঁওতালের সঙ্গে থাকি। বৌদি অনিকা সাঁওতাল আমাকে তার নিজের সন্তানের মতোই দেখেন। ভাইয়ের পরিবারকে দেখাশোনা করি। আমাদের পাঁচটি গরু আছে। প্রতিদিন সকালে সেগুলোকে নম্বরে নিয়ে যেতে হয় ঘাস খাওয়ানোর জন্য। সারাদিন গরুগুলোকে এদিক-ওদিক চরিয়ে বিকেলে বাড়ি নিয়ে আসি।’

তিন মাস পর পর ২১০০ টাকা করে বয়স্কভাতা পাই। ভাইয়ের দেওয়া কিছু টাকা আর সরকারি ভাতার টাকা দিয়ে আমার কোনো মতো চলে যায় বলে জানান বিজয়।

বিয়ে-শাদির কথা বলতেই মলিনতা ঘিরে ধরে তার মুখমণ্ডলে। ‘আমাকে কে বিয়ে করবে বাবু? আমি তো ঠিক মতো হাঁটতে পারি না, খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাঁটি।

মিংতিঙ্গা চা বাগানের চা শ্রমিক বাদল ভূঁইয়া বলেন, বিজয় সাঁওতাল অনেক কষ্ট করে জীবনে। বিয়ে করেনি। ভাইয়ের সংসারকে নিজের মনে করে আকড়ে ধরে আছে। সংসারের দৈনিক কাজকর্ম করেই জীবন পার করে দিচ্ছে সে।

যারা বিজয় সাঁওতালের মতো প্রতিবন্ধী, যারা স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারে না অথচ দৈনিক কর্তব্য পালন করে চলে সুন্দরভাবে তারাই কর্মবীর। সময়ের মানদণ্ডে উজ্জ্বল হতে থাকে তাদের কর্মগাঁথা।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © crimeseen24.com-2024
Design By MrHostBD